SILKS
Sericulture Information Linkages
And Knowledge System

Central Silk Board, Minisitry of Textiles, Government of India, Bangalore
(English) Cachar, Assam

মুগাপলুরখাদ্যগাছেরউৎপাদনপ্রযুক্তি(MUGA FOOD PLANT PRODUCTION TECHNOLOGY)

  • মুগাপলুর জন্য সোম (পারসিয়া বসবিসিনা ) এবং সোয়ালু (লিটসিয়া পলিয়ানথা জাস) গাছ হচ্ছে মূল খাদ্য উদ্ভিদ।
  • এই দুটি গাছই বীজের মাধ্যমে প্রসারিত হতে পারে।
  • সুস্থ উদ্ভিদের বীজের সঠিক চয়ণ নিশ্চিত করে সুস্থচারার উৎপাদন করা দরকার।
বীজবেডপ্রস্তুতি
  • একটি উচ্চ জমি ছায়াযুক্ত স্থান চয়ণ করুন।
  • জমিটি ৩০ সেমি গভীরতার কর্ষন করুন এবং সঠিকভাবে সমান স্তরে তৈরী করুন,
  • ৫ মিটার লম্বা, ১.৫ মিটার চওড়া এবং ১.৫ সেমি উচ্চতায় বেড তৈরী করুন,
  • দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি ফাঁক বজায় রাখুন,
  • ৫০ কেজি গোবরসার এবং ২০০ গ্রাম ম্যালাথিয়ন  প্রয়োগ করুন এবং মাটির সাথে ভালোভাবে মেশান।
বীজসংগ্রহএবংসঞ্চয়
  • মে/ জুন মাসে গাছ থেকে পরিপক্ক বীজ সংগ্রহ করুন,
  • জলে বীজের খোসা ছাড়িয়ে নিন।
  • জলে ভাসমান পরীক্ষা দ্বারা বীজের কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন।
  • যে সমস্ত বীজ জলের নীচে অবস্থান করবে তাদেরই নির্বাচন করুন।
  • ছায়াতে বীজ  শুকান এবং ছত্রাকনাশক কার্বেনডাজিম (৫০% ডব্লুপি) প্রতি কেজি বীজে ২ গ্রাম প্রয়োগ করুন যাতে ছত্রাকের সংক্রমন এড়ানো যায়।
বীজেরপরিচর্যাএবংবপন
  • সংগ্রহ করার পরই বীজের বপন করা বাঞ্ছানীয়,
  • সুস্থ বীজ ০.৩ গ্রাম ওজন এবং ৭ মিমি ব্যসযুক্ত বপনের জন্য আদর্শ।
  • প্রত্যেক বেডে ২ কেজি বীজ ২ সেমি গভীরে ১৫ সেমি দূরত্বে একটি একটি করে বপন করুন।
  • বপনের পূর্বে বীজগুলি ২৪ ঘণ্টা জলে ভিজাইয়া রাখা দরকার।
  • বীজের বেড একটি পাতলা স্তর খড় কিংবা খড়ঘাস দিয়ে ঢাকা দিয়ে রাখুন।
  • নিয়মিত প্রত্যেকদিন জল ছিটাইয়া বেড ভিজানো দরকার।
পলিটিউবেচারাগাছেরপ্রতিস্থাপন
  • বীজবপনের ২ মাস পর চারাগুলির পলিটিউবে প্রতিস্থাপন করা যা ২০ সেমি দীর্ঘ, ৩০ সেমি ব্যসযুক্ত এবং যেটা মাটি, বালি এবং গোবর (১ : ১ : ১ অনুপাতে) দিয়ে ভর্তি থাকবে।
  • সপ্তাহে একদিন জল দিন।
ক্লোনালপ্রসারণ
  • ৬ মাস পুরানো ১০-১২ সেমি লম্বা, ১টি পাতা ও অগ্রকুড়ি সহিত চারাগাছ ৩০০ PPM  IAA তে দ্রুত চোবানো হয় এবং আদ্রবালির বেডে রোপন করা হয়। ইহা নিশ্চিত করে ৭২-৮৮% শিকড় বৃদ্ধি এবং ৭০-৮৬% বেঁচে থাকা,
  • ২ মাস পুরানো ৩০-৪০ সেমি লম্বা চারাগাছ মাটি বালি এবং গোবরের ( ১ : ১ : ১) মিশ্রনে জুলাই –সেপ্টেম্বর মাসে লাগানো হয় সোম গাছের প্রসারণের জন্য।
  • এয়ার লেয়ারিং কৌশলের মাধ্যমে প্রসারণ হতে পারে।
জমিতেরোপন
  • ভালো নিষ্কাসন ব্যবস্থাপূর্ণ উঁচুজমি চয়ন,
  • মে মাস হইতে জনু মাসের মধ্যে রোপন করা,
  • জমিকে ৩০ সেমি গভীরতার কর্ষন করা,
  • ৩মি x ৩মি জায়গাতে ৩০ সেমি x ৩০ সেমি গর্ত তৈয়ারী করা,
  • ঐ গর্ত ৫ কেজি ভালো পচা গোবর দিয়ে ভর্তি করা,
  • বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ৯-১০ মাস বয়সী চারাগাছ লাগানো।
শস্যব্যবস্থাপনাঅনুশীলন
  • নিজহাতে অথবা স্বয়ংক্রিয় ক্ষমাতাপূর্ণ যন্ত্রের দ্বারা নিড়ানো।
  • ৪ বছর পর্যন্ত গাছ পিছু প্রতি বছরে ৫ কেজি এফ. ওয়াই. এম প্রয়োগ করা। ৪ বছরের পর হইতে গাছের চারিদিকে ১৫-২০ সেমি গভীর গর্ত তৈয়ার করে প্রতি গাছ পিছু প্রতি বছরে ১০ কেজি এফ. ওয়াই. এম অক্টোবর- নভেম্বর মাসে প্রয়োগ করা,
  • ৪ বছর পর্যন্ত এন.পি.কে প্রতি গাছ পিছু ৪০ : ৭৫ : ১৫ অনুপাতে প্রয়োগ করা।  ৪ বছরের পর থেকে গাছের চারিদিকে ১৫-২০ সেমি গভীর গর্ত তৈায়ার করে প্রতি গাছ পিছু বছরে এন.পি.কে (৮০ : ১৪০ : ৩০ গ্রাম অনুসারে ) এপ্রিল – মে এবং সেপ্টেম্বর – অক্টোবর মাসে প্রয়োগ করা,
  • চারাগছের রোপনের পর সময়ানুসারে অগ্রস্থিত কুড়ি ভাঙিয়া দিলে গাছের শাখাপ্রশাখা
বাড়ে এবং গাছের কাণ্ড স্থূলময় হয়।
  • ৭ বছরের সময় গাছকে ৬ ফুটের উপর কাটা হয়।
  • পলুপালনের পর সময় সময় গাছ গভীরভাবে কাটা হয় যাহাতে ১০-১২ ফুটে ঝোপ তৈরী হয় যাহা পলুপালনের ব্যবস্থাপনার উপযোগী।
ফসলসুরক্ষা
  • ষ্টেম বোরার শুঁয়াপোকা ( Zeuzera indica) গাছের প্রধান কাণ্ডে ফুটো করে এবং কাণ্ডের টিসু খায়।
  • কাণ্ডের ছিদ্রগুলি তূলোর বল ১.৫% নুভান কীটনাশকে ডুবিয়ে বন্ধ করে দেওয়া ।  তারপর মাটি দিয়ে লেপে দেওয়া,
  • কিরিকুলা (Cricula trifenestra) স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘‘অ্যামুফুতুকানি’’ বেশী মাত্রায়  খায় এবং পাতার ক্ষতি ঘটায়।
  • নিজ হাতে এই ক্ষতিকারক পোকার ডিম ও শুয়োপোকা গুটি সংগ্রহ করিয়া মেরে ফেলা অথবা জ্বালিয়ে দেওয়া যাতে বৃদ্ধি না ঘটে।  এই পোকাকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য   ০.০৫% ফসফামিডন স্প্রে খুব কার্যকরী।
  • পাতার দাগ ধরা (লিফ স্পট) রোগ (Phyllosticta perseae) একটি ছত্রাক রোগ, এর প্রকোপ বেশী হলে নিয়ন্ত্রনের জন্য ১৫ দিন অন্তর ১% ইণ্ডোফিল এম-৪৫ স্প্রে করার প্রয়োজন।
  • লিফ ব্লাইট (Collectotrichum gloeosporioides) একটি অন্য ছত্রাক রোগ।  প্রথম অবস্থায় আক্রান্ত পাতা তুলে জ্বালিয়ে দিলে ইহার প্রকোপ কম হয়। সময়ে পাতা তুলে ব্যবহার করে নেওয়াতে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, এই লিফ ব্লাইট রোগ নিয়ন্ত্রের জন্য ইন্ডোফিল এম-৪৫ ব্যবহার করা যেতে পারে।
উৎসঃ
  • ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য মুগা এরি এবং তুঁত রেশম উন্নয়নের চর্চা প্যাকেজ ২০০৫ – কেন্দীয় মুগা এরি উৎপাদন অনুসন্ধান এবং প্রশিক্ষন সংস্থান, লাডুইগড়, জোরহাট, আসাম।
  • রেশম উন্নয়ন প্রযুক্তি ২০০- নির্দেশিকা, কর্ণাটক রাজ্য রেশম উন্নয়ন গবেষনা এবং উন্নয়ন সংস্থান, বেঙ্গালুরু -৫৬০০৬২।
  • মুগার শোষকগাছ এবং পলুপালনের বর্তমান প্রযুক্তির উপর কর্মশালা- কেন্দ্রীয় মুগা এরি উৎপাদন অনুসন্ধান এবং প্রশিক্ষন সংস্থান, লাছুইগড়, জোরহাট, আসাম।