SCHEMES AND GRANTS OF FARMERS
Name of the scheme: CDP during XII plan
1. Support for mulberry plantation development:
২. সেচ ও অন্যান্য জল সংরক্ষণ পদ্ধতির জন্য সহায়তা (ASSISTANCE FOR IRRIGATION & OTHER WATER CONSERVATION AND USAGE TECHNIQUES):
১) সংক্ষিপ্ত বিবরণী –
তুঁতচাষ সাধারণতঃ মাটির নীচের জল সেচ হিসাবে ব্যবহার করে করা হয়। কিন্তু জলের ক্রমবর্ধমান চাহিদার জন্য প্রথাগত পদ্ধতিতে সেচ দিলে তা লাভবান হচ্ছে না, তাছাড়া অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা ইত্যাদির কারণে মাটির নীচের জল কমে আসছে। যেহেতু তুঁত গাছে বেশি পরিমাণ সেচ লাগে সেইহেতু একাদশ পরিকল্পনায় সেচ সহায়তা প্রকল্প চালু করা হয়েছিল যাতে সমস্তরকম সেচ ব্যবস্থার সুযোগ ছিল। যেমন – কুয়ো,স্যালো/ ডিপ টিউবয়েল, পুকুর ইত্যাদি।
এই ব্যবস্থাটি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে। এ ব্যবস্থার খরচ ধরা হয়েছিল ৫০,০০০/- টাকা যার মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ছিল ২৫,০০০/- টাকা। এর আওতায় কমপক্ষে ১ হেক্টর তুঁতবাগান রাখার ব্যবস্থা ছিল।
দ্বাদশ পরিকল্পনায় এর সুযোগ রাখা হয়েছে কিছুটা নমনীয় ভাবে যাতে বড় চাষীরাও এর সুযোগ পান। এই ব্যবস্থার মধ্যে সমস্তরকম সেচ ব্যবস্থাকে আনা হয়েছে। এতে অঞ্চল ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা এবং তুঁত জমির পরিমাণ বিভিন্ন হতে পারে। চলতি পরিকল্পনা কালে ২৫০০০ একর তুঁত জমিকে এর আওতায় আনার ব্যবস্থা আছে যার জন্য মোট খরচের পরিমাণ প্রায় ৭২.৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৭.৬৮ কোটি টাকা কেন্দ্রের অনুদান। একর প্রতি ২৫ – ৩০ হাজার টাকা প্রতি একর বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য। আনুপাতিক যোগদান ৫০ :২৫ : ২৫ / ৮০ : ১০ : ১০।
২। প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য –
(১) ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার অধীনে কেবলমাত্র অনুমোদিত নকশা ও পাশাপাশি ড্রিপ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তুঁত চাষের প্রথা অথবা জমির প্রকৃতি অনুসারে হতে পারে।
(২) আঞ্চলিক প্রকারভেদে উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থা,
(৩) সংশিষ্ট রাজ্যসরকারগুলি উপযুক্ত চাষীকে নির্বাচন করবেন, একইসঙ্গে এও দেখতে হবে যেন তারা তাদের অংশ ব্যয় করতে পারেন বা উপযুক্ত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থার সংগ্রহকারীকে চিহ্নিত করতে হবে।
(৪) একজন চাষীকে তখনই অনুদানের আওতায় আনা যাবে যখন সে প্রাথমিক শর্তাদি পূরণ করতে পারবেন।
(৫) প্রস্তুতকারী সংস্থা সম্পূর্ণ বিবরণী রক্ষাণাবেক্ষণের ব্যবস্থা সহ লাগানোর সময় চাষীকে দেবেন।
(৬) রেশম চাষীর স্বাধীনতা থাকবে সেচের ব্যবস্থা পছন্দ করার।
(৭) সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের দায়িত্ব হবে ভালোমানের 3DBIS ছাপযুক্ত যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার।
(৮) অঞ্চলভিত্তিক সেচ ব্যবস্থার দাম অনুযায়ী অনুদান দেওয়া হবে।
(৯) রাজ্য সরকার বা রেশমচাষী উপযুক্ত সার্টিফিকেট দেবেন এই মর্মে যে তিনি আগে এই সংক্রান্ত কোনো অনুদান গ্রহণ করেন নি। এ- সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যাবে।
৩. পলুপালনের সরঞ্জাম/ চাষের সামগ্রী সরবরাহ (SUPPLY OF REARING APPLIANCES / FARM EQUIPMENT TO FARMERS)
সংক্ষিপ্ত বিবরণী –
রেশম চাষে উৎপাদন বাড়ানো ও শক্তি সংরক্ষণের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। পলুপালনের সামগ্রী এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে বিভিন্ন হতে পারে। বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হল তাকের মধ্যে পলুপালন। পলুপালনের সরঞ্জামের সরবরাহ রেশম চাষীকে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে। দশম এবং একাদশ পরিকল্পনায় এই ব্যবস্থা যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছিল বিশেষকরে দ্বিচক্রী রেশম উৎপাদনে। এরদ্বারা চাষীদের উন্নত পলুপালন সামগ্রী যেমনRack,রোটারী মাউন্টেজ ইত্যাদির সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। একর পিছু খরচ ধরা হয়েছিল ৫০,০০০/- টাকা।
দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে এই সহায়তা কেবলমাত্র দ্বিচক্রী বা উন্নত সংকর প্রজাতি পালনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। চাষীপ্রতি সহায়তা রাশি ৪০-৭০ হাজার টাকা অঞ্চলভেদে। এর অধীনে কম সাশ্রয়কারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মোট ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্প রাখা হয়েছে যার মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ১৪৯.৬৬ কোটি টাকা। এর অধীনে ৪৫ হাজার রেশম চাষীকে আনার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ – (১)
সংশ্লিষ্ট্য রাজ্যসরকার গুলি তাদের সম্প্রসারণ কর্মচারী / পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সহায়তায় রেশমচাষী নির্বাচন করবেন। এই প্রকল্পে স্বচ্ছ্বভাবে সাজ সরঞ্জাম কেনার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যসরকার গুলি রাজ্যস্তরে একটি কমিটি গঠন করতে পারেন যাতে এই কাজ ত্বরান্বিত করা যায়। সংশ্লিষ্ট রেশমচাষী প্রয়োজন ভিত্তিক সাজসরঞ্জাম মাথাপিছু খরচের মধ্যে রেখেই সরবরাহ করা যেতে পারে। যেহেতু সাজ সরঞ্জামের দাম বেশী সেই জন্য রেশমচাষীকে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পেতে উৎসাহী করতে হবে। এই ব্যবস্থা নমনীয় রাখা হয়েছে যাতে কমিউনিটি ভিত্তিক রেশমচাষ উৎসাহিত হতে পারে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের সহায়তা দানের জন্য এর খরচ একাদশ পরিকল্পনায় মাত্র ৫ হাজার টাকা রাখা হয়েছিল। সহায়তা কেবলমাত্র আসল খরচ বা মূল অনুমোদিত খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। দক্ষিণ রাজ্যগুলিতে যেহেতু দ্বিচক্রী পলুরচাষ বেশী সেজন্য রোটারী মাউন্টেজ সরবরাহ করা জরুরী। অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে প্লাষ্টিক বা অন্যান্য মাউন্টেজ ব্যবহার করা যেতে পারে। দক্ষিণ ভারতে একবারে ২৫০ ডিম পোষা ও পূর্বভারতে ১৫০ ডিম পোষার জন্য মোট অনুদান ৭০ হাজার টাকার অনুপাতে দেওয়া হবে।
উত্তরপূর্ব ভারতে ও পাহাড়ী রাজ্যগুলিতে সৌর আলো ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য Unit Cost বইতে পাওয়া যাবে।
(৪) ভালো মানের পরিশোধক ও অন্যান্য ফসল সংরক্ষণকারী ব্যবস্থার সরবরাহ (SUPPLY OF QUALITY DISINFECTING MATERIALS & OTHER CROP PROTECTION MEASURES FOR FARMERS) –
সংক্ষিপ্ত বিবরণ – সফল ও সুস্থ পলুপালনের অপরিহার্য অঙ্গ হল পরিশোধন। পরিশোধনের মাধ্যমে জীবাণুদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়। রেশমকীট বিভিন্ন ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ও প্রোটোজোয়া দ্বারা আক্রন্ত হয়। পলুর রোগের ক্ষেত্রে রোগ সারানো সম্ভব নয় সেইজন্য রোগের আক্রমণ যাতে না হয় সেই ব্যবস্থায় নেওয়া দরকার। এদের রোগ প্রতিহত করার জন্য সঠিক উপযুক্ত পরিশোধন ব্যবস্থা এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরী। তাছাড়া সঠিক গুণ সম্পন্ন উপযুক্ত প্যাকেটে পরিশোধক পাওয়া সফল পলুপালনের একটি অঙ্গ।
একাদশ পরিকল্পনায় এই খাতে দ্বিচক্রী পলুপালনের জন্য খরচ ধরা হয়েছিল ৩ হাজার টাকা এবং অনুপাত ছিল ২৫ : ২৫ : ৫০ (কেন্দ্র : রাজ্য : চাষী)। এই ব্যবস্থা খুবই সফলভাবে চাষীদের মধ্যে প্রসার করা হয়েছিল বিশেষ করে অপ্রথাগত রাজ্যগুলিতে।
দ্বাদশ পরিকল্পনায় এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে দ্বিচক্রী পলুর ফলন বাড়ে। এই ব্যবস্থা সঞ্চপালক এবং বাণিজ্যিক পলুপালক।
(৫) পলু পালনের ঘর নির্মানে সহায়তা (ASSISTANCE FOR CONSTRUCTION OF REARING HOUSES) –
যেহেতু তুঁত রেশমকীট পালন ঘরের মধ্যে করা হয় ও এদের পালন করার জন্য বিশেষ আবহাওয়া যেমন, নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। সেইজন্য তুঁত রেশম কীট পালনের জন্য একটি আলাদা ঘর প্রয়োজন এতে রেশমগুটির উৎপাদন ও গুনমান বাড়ে। এছাড়াও অন্যান্য কারণ, যেমন রোগ ও ক্ষতিকারক উজি মাছির নিয়ন্ত্রন ও গুটি ফসল সুনিশ্চিত করার জন্য একটি আলাদা ঘর প্রয়োজন। পলু পালন ঘর নির্মানের জন্য পুঁজির প্রয়োজন যা অধিকাংশ রেশম চাষীর সাধ্যের মধ্যে থাকে না তাই এর জন্য সহায়তা অত্যন্ত জরুরী।
একাদশ পরিকল্পনা কালে ১,১১,০৮১ টি ঘর তৈরীর লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মাত্র ৬১,৫৮৭ টি (প্রায় ৫৫%) ঘর তৈরীর সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যার অন্যতম কারণ ঘর তৈরীর সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি, মজুরী বৃদ্ধি ও অনুদানের সল্পতা। এর কারণে প্রধান রেশম উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির চাষীরা এই অনুদান গ্রহণ করতে পারেন নি কারণ তাদের দেয় অংশ (৫০%) দিতে অক্ষম। দ্বাদশ পরিকল্পনা কালে রাজ্যগুলির অনুরোধে একর প্রতি খরচ, অনুদান (সরকারী) ইত্যাদি বাড়ানো হয়েছে প্রধান প্রধান রেশম উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির ভৌগলিক অবস্থান, রেশমকীট পালনের মাত্রা ইত্যাদির কথা মাথায় রেখে দ্বাদশ পরিকল্পনা কালে গৃহ নির্মানে সহায়তা ৭৫,০০০, ১,৫০,০০০ ও ২,০০,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ৯০,০০০, ১,৭৫,০০০ ও ২,৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। তাছাড়া স্থানীয় মালপত্র দিয়ে তৈরী করা সল্পমূল্যের ঘর করার জন্য ৩০,০০০ টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
চলতি পরিকল্পনা কালে এইরকম ৭৫,০০০ ঘর নির্মানের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে যার মূল্য করা হয়েছে মোট ৬০৮.৬০ কোটি টাকা, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ১৯৬.২০ কোটি টাকা। একাদশ পরিকল্পনা কালে সাধারণ অংশীদারীত্ব (২৫ : ২৫ : ৫০) এর বদলে নিম্নলিখিত ভাবে অনুদান প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া যে সমস্ত রেশম চাষীর ২-৫ হেক্টর তুঁত জমি আছে তাঁদের জন্য দ্বিতীয় ঘর নির্মানে বা সম্প্রসারণে ও সহায়তা দেওয়া হবে। অবশ্য তার প্রাথমিক শর্ত হল দ্বিচক্রী ও উন্নত সংকর জাতের পলু পালন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় অনুদান ২৫% সীমিত থাকবে যে কোনও মডেলের ক্ষেত্রে।
প্রযুক্তি গত বৈশিষ্ট সমূহঃ –
- পলু পালন ঘর হবে নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত মাপ ও বৈশিষ্ট সহ। যা বসবাসের ঘর থেকে দূরে হলে ভাল হয়।
- ঘরের মেঝে ও দেওয়াল পলেস্তারা যুক্ত হতে হবে ও এটি আটোসাটো হতে হবে যাতে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রন করা যায় ও সঠিকভাবে পরিশোধন করা যায়।
- এতে যথেষ্ট হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
- ঘরের মধ্যে ৩ থেকে ৪ টি ঘড়া ( বা তাক) রাখার মত জায়গা থাকতে হবে।
- যেহেতু অঞ্চলভেদে পলুপালন ঘরের মডেলের তারতম্য হয় এমনকি একই রাজ্যের সমতল ও পাহাড়ী এলাকাতে, তাই অঞ্চলভেদে অনুমোদিত ডিজাইনের হওয়া দরকার। কিন্তু মালপত্র ঐ অঞ্চলের উপযুক্ত হওয়া উচিত।
- পলুপালন ঘর পারতপক্ষে পূর্ব বা দক্ষিণ মুখী হতে হবে।
- বিভিন্ন অঞ্চল ভেদে, পলু পালনের মাত্রা অনুযায়ী তিন ধরণের মডেল যেমন- ১০০০ বর্গফুট (২০০ ডিম পালন যোগ্য), ৬০০ বর্গফুট (১৫০ ডিম পালন যোগ্য) ২২৫ বর্গফুট (৫০ ডিম পালন যোগ্য), যথাক্রমে ২.৭৫ লক্ষ, ১.৭৫ লক্ষ ও ৯০,০০০ টাকার অঙ্ক ধরা হয়েছে।
- স্থানীয় কাঁচামাল দিয়ে তৈরী সল্পমূল্যের পলুপালন ঘর তৈরীর জন্য এককের মূল্য ৩০,০০০ টাকা ধরা হয়েছে।
- বিশেষ শ্রেনীর রেশম চাষীর জন্য দ্বিতীয় ঘর বা সম্প্রসারণের জন্য কেন্দ্রীয় অনুদান ২৫% নির্দিষ্ট থাকবে।
- যদিও দেখা যায় যে পলু পালন ঘর নির্দিষ্ট মাপ ও মডেল অনুযায়ী তৈরী হয়নি কিন্তু তা পালনের উপযোগী, তাহলে সম্মিলিত পরেদর্শনের পর অনুদান রাশি দেওয়া যেতে পারে।
- নির্ম্মানকারীর বোঝা কমানোর জন্য ছোট ছোট অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। যাতে তারা পলুপালন ঘরের নির্ম্মানে সহায়তা করে।
- রেশম চাষীকে এই মর্মে একটি ঘোষনা করতে হবে যে তারা আগামী ৫ বছর পলুপালন করবেন।
(৬) চাকী বাগান, চাকীপালন ঘর (CRC) ও চাকী পালনের সরঞ্জাম কেনার জন্য সহায়তা (ASSISTANCE FOR MAINTENANCE OF CHAWKI GARDEN, CONSTRUCTION OF CHAWKI REARING CENTRE BUILDINGS (CRCs) & PROCUREMENT OF CHAWKI REARING EQUIPMENTS:
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ-
রেশম কীটের প্রথম দুটি দশা পালনকে চাকী বলা হয়। চাকী পালন ঠিকমতো না করা হলে এরা বিভিন্ন রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয় ও ফসল হানি হয়। চাকী পালন একটি গুরুত্ব পূর্ণ সময়, এ সময় উচিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা, ভালো পাতা, পরিছন্নতা ও সর্ব্বোপরি প্রযুক্তিগত নিপুনতার প্রয়োজন হয়। যেহেতু বেশীর ভাগ রেশম চাষীর উপরোক্ত সুবিধা গুলি নেই, সেই কারণে চাকী পালন কেন্দ্র (CRC) চালু করা হয়েছে যাতে সুনিশ্চত গুটির ফসল পাওয়া যায় ও উৎপাদন বাড়ে।
একাদশ পরিকল্পনাকালে এই প্রকল্প চালু হয়েছিল মূলত দ্বিচক্রী পলু পালনের জন্য ও কেন্দ্র পিছু খরচ ধরা হয়েছিল ৫.০ লাখ টাকা, যাতে প্রায় ৫০% অনুদান রাশি (২৫ : ২৫) কেন্দ্রও রাজ্য সরকারের। ঐ সময় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬০০ CRC যার মধ্যে ৪৮৪ টি রূপায়িত হয়েছে। যদিও এর প্রভাব চাষীদের মধ্যে যথেষ্ট ছিল কিন্তু আসল ক্ষেত্রে দেখা গেছে গ্রামে CRC ধারণা খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। বেশীরভাগ ব্যানিজিক গুটি উৎপাদকরা নিজেদের ঘরেই চাকী পালন করে থাকেন। সেই জন্য এই ব্যবস্থা আরো ব্যপক ভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে যাতে দ্বিচক্রী গুটির ফলন বাড়ে।
দ্বাদশ পরিকল্পনা কালে এই সহায়তা কেবনলমাত্র দ্বিচক্রী ও সংকর জাতের পলু পালনের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তাছাড়া চাকী বাগান রক্ষনাবেক্ষনের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এই সুযোগ NGO, SHG, CBO ও একক চাষীদের দেওয়া হবে যাঁরা নিজেদের জমিতে বা দীর্ঘ মেয়াদী লিজের ভিত্তিতে নেওয়া জমিতে CRC তৈরী করবেন।
তৈরীর খরচ, মজুরী ও সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা মাথায় রেখে দ্বাদশ পরিকল্পনা কালে একক পিছু খরচ ৬০ লাখ টাকা পর্য্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার মধ্যে ঘর তৈরী সরঞ্জাম কেনা, চাকী বাগানের ব্যবস্থা ইত্যাদি রাখা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা কালে ৩৮০ টি CRC স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে লগ্নীর পরিমান ২০.২০ কোটি টাকা। এতে কেন্দ্রীয় অনুদান ৮.২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চাকী বাগানের দেখভালও রয়েছে। প্রস্তাবিত অংশীদারিত্ব ৩৫: ৩৫ :৩০ যথাক্রমে কেন্দ্র:রাজ্য: রেশমচাষী।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট সমূহঃ –
- সংশ্লিষ্ট রাজ্য রেশম দপ্তর Seri Business Centre / CBO/ NGO/ SHG বা একক রেশম চাষীর দরখাস্ত যাদের নিজের বা দীর্ঘ মেয়াদী ভিত্তিতে জমি আছে বিবেচনা করে অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।
- রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ড সম্মিলিতভাবে ভালো মানের সরঞ্জাম কেনায় সহায়তা করবেন।
- সহায়তা দেওয়া হবে এমন দলের যাদের সদস্য সংখ্যা অন্ততঃ দশ, কারণ ছোট দলের জন্য বড় মাপের ব্যবস্থা অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভজনক নয়।
- রাজ্য রেশম দপ্তর উদ্যোগকারীকে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে সহায়তা করবে।
- যে সমস্ত উদ্যোগী নির্বাচিত হবেন তাদের চাকী পালন প্রযুক্তি বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
- প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর সময় সময় তাদের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে ও আধুনিকতম প্রযুক্তি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল করতে হবে।
- একেবারে ৫০০০ ডিম মুখানোর ব্যবস্থা (প্রতি দশ দিন অন্তর) বছরে ১.৫ – ১.৬ লক্ষ ডিম পোষার জন্য কমপক্ষে দু-একর চাকী বাগান প্রয়োজন।
- রাজ্য রেশম দপ্তর নিজেদের খামারে CRC করতে চাইলে চাষীর অংশও (৩০%) তাদের বিনিয়োগ করতে হবে। এতে রাজ্য সরকারের অংশ (৩৫%) ছাড়া।
- ছোট আকারে CRC (১০-২০ জন চাষীর জন্য) করার জন্য সহায়তারও ব্যবস্থা আছে। এতে সরঞ্জাম (প্লাসটিক ট্রে, তাক, হাইগ্রোমিটার, পাতা কাটার যন্ত্র, স্প্রেয়ার ইত্যাদি) কেনার জন্য ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকার অথবা দামের সমমূল্য সহায়তা থাকবে।
- CRC টি অবশ্যই CSB তে পঞ্জীকরণ করতে হবে।
- এটি পরিণত পলুপালন এলাকা থেকে দূরে হলে ভাল হয়।
- চাকী পলু দেওয়ার আগে যথোপযুক্ত কর্ত্তৃপক্ষ দ্বারা শংসিত হতে হবে (নির্দিষ্ট বয়ানে)।
- যেহেতু অঞ্চল ভেদে CRC-র আকার ও গঠন ভিন্ন হবে সেইহেতু এটি অনুমোদিত নকসা অনুযায়ী তৈরী করতে হবে।
- রাজ্যস্তরে গঠিত ক্রয় কমিটি সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে সহায়তা করবে।
- রাজ্য রেশম দপ্তর এমনভাবে পরিকল্পনা তৈরী করবে যাতে ব্যানিজ্যিক গুটি উৎপাদক অঞ্চলে যথেষ্ট সংখ্যক CRC তৈরী করা যায়।
- CRC গুলি উচ্চ ফলনশীল তুঁত প্রজাতি ব্যবহার করবে একই সঙ্গে রেশম গবেষণা
প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত প্রযুক্তি সমূহ এই ব্যাপারে বিশদ বিবরণ নিচে দেওয়া হল –
৭) জৈবিক পদ্ধতিতে কীট নিয়ন্ত্রণ , দরজায় দরজায় পরিশোধনের ব্যবস্থা, উপযুক্ত জিনিসের সরবরাহ এবং সেরি পলিক্লিনিক স্থাপনের সহায়তা (PRODUCTION UNITS FOR BIOLOGICAL INPUTS, DOOR-TO-DOOR SERVICE AGENTS FOR DISINFECTION, INPUT SUPPLY, & ASSISTANCE FOR SERICULTURE POLY-CLINICS) –
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণ –
এই ভাগে তিনটি অংশ আছে। যেমনঃ – জৈবিক নিয়ন্ত্রক উৎপাদন, বাড়ী বাড়ী পরিশোধনের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ এবং সেরি পরিক্লিনিক স্থাপনের সহায়তা। একাদশ পরিকল্পনা কালে এগুলি আলাদা আলাদা হিসাবে চিহ্নিত ছিল। দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে এগুলির সংযুক্তকরণ ঘটিয়ে একটি একত্রিত ইউনিট হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে, যার কর্মক্ষেত্র একটি ক্লাসটার এমনকি CRC পর্যন্ত যোগ করা যেতে পারে।
i) জৈবিক নিয়ন্ত্রক ঊৎপাদনকারী একক – একাদশ পরিকল্পনাকালে এর গ্রহণযোগ্যতা ছিল অত্যন্ত কম। এই প্রযুক্তির জ্ঞানও ছিল সীমিত। সেইকারণে দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে এটি সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যারা এই ইউনিট স্থাপন করতে ইচ্ছুক।
গবেষণা প্রতষ্ঠানগুলি বিভিন্ন উদ্বাবিত প্রযুক্তি যেমন – জীবাণুসার উৎপাদন, যা দিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়ানো যায় অথবা রোগ নিয়ন্ত্রণের বায়োপেস্টিসাইডস্/ বায়ো কন্ট্রোল এজেন্টস্ইত্যাদি যা রেশমচাষের বিভিন্ন পর্বে ব্যবহৃত হয়। এগুলি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উদ্যোগীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে এমনকী প্রয়োজন হলে যৌথ উদ্যোগেও করার কথা প্রস্তাবে আছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যে সমস্ত উদ্ভাবন যেমন – জীবাণু সারের উৎপাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যসরকার গুলি স্নাতক / স্নাতকোত্তর আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের প্রাথমিক সুবিধাগুলি যেমন- জমি, ঘর ইত্যাদি আছে তাদের অনুমোদন এবং অর্থ সাহায্যের ব্যবস্থা করতে হবে।
(ii) ঘরে ঘরে পরিশোধনের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ (Door to Door Service Agents for disinfection and inputs supply)
একাদশ পরিকল্পনাকালে এটি যথেষ্ট উপকারী হিসাবে প্রতিপন্ন হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে যারা দরজায় দরজায় ঘুরে পরিশোধনের কাজ করবে ও আবশ্যক জিনিসপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা করবে। আগ্রহী বেকার যুবক/ উদ্যোগী / ব্যক্তি যারা স্থানীয় পঞ্চায়েত দ্বারা নির্বাচিত/ NGO/ SHG/ CBO বা অন্যান্য স্থানীয় সংস্থা যাদের একটি মোটর বাইক কিংবা তিন চাকার গাড়ী, পরিশোধনের সামগ্রী যেমন যন্ত্রচালিত Sprayer আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে। এ সমস্ত Service Agents রেশমচাষীর দরজায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উচিত মূল্যের বিনিময়ে পৌঁছে দেবে ও ঘর পরিশোধনের ব্যবস্থা করবে।
(iii) সেরি পরিক্লিনিক স্থাপন (Setting up of Sericulture Polyclinics)
কৃষিক্ষেত্রে এগ্রি পলিক্লিনিকের ধাঁচে সেরি পরিক্লিনিক স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে শিক্ষিত যুবকরা এগুলি চালাবে ও সেরিকালচার নলেজ সেন্টার হিসাবে কাজ করবে। উপযুক্ত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করবে ও প্রযুক্তি বিষয়ক পরামর্শ দেবে। উপযুক্ত শিক্ষাপ্রাপ্ত স্নাতক / ডিপ্লোমা, যাদের রেশমচাষ বিষয়ে জ্ঞান ও পরীক্ষা পদ্ধতি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল আছেন তাদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করতে হবে। পরে তাদের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়, যেমন – মাটি, পাতা, পলু পরীক্ষা, রোগ নির্ধারণ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে পারদর্শী করে তোলা হবে। তাঁরা বিভিন্ন পরীক্ষা ও পরামর্শের জন্য যথাযথ পারিশ্রমিক নিতে পারবেন। এই সংস্থাগুলি রেশমচাষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন – পরিশোধক, রাসায়নিক ছোটো খাটো সরঞ্জাম ইত্যাদির বিক্রির ব্যবস্থাও করবেন।
উপরোক্ত তিনটি ব্যবস্থার জন্য দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে ৬.৪৩ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর দ্বারা ২৫০ টি ইউনিট স্থাপন করা যেতে পারে। এতে কেন্দ্রের অনুদান ৩.৩৭ কোটি টাকা। একটি ইউনিটের খরচ হিসাবে দক্ষিণের রাজ্যগুলির জন্য ৩ লাখ ও অন্যান্য রাজ্যগুলির জন্য ১.৫ থেকে ২.৮৪ লাখ পর্যন্ত ধরা হয়েছে। কেন্দ্র, রাজ্য এবং উদ্যোগীর আনুপাতিক অংশদান যথাক্রমে ৫০ : ২৫ : ২৫ / ৮০ : ১০ : ১০ ।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য সমুহ –
- সংশ্লিষ্ট রাজ্য রেশম দপ্তর উদ্যোগী / বেকার স্নাতকদের চিহ্নত করবেন উপযুক্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- চিহ্নিত উদ্যোগীদের কেন্দ্রীয় রেশম গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
- উদ্যোগীদের রাজ্য রেশম দপ্তর / কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ডের অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসাবে সংশাপত্র দেওয়া হবে যারা রেশমচাষ সংক্রান্ত সামগ্রী বিতরণ করবেন।
- জৈবিক নিয়ন্ত্রক উৎপাদনকারী ইউনিট কমপক্ষে দু’বছর রাজ্য করকারের সহায়তা পাবেন যাতে তারা উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করতে পারেণ।
- উৎপাদিত জৈব নিয়ন্ত্রক যাতে সঠিক গুণমানে থাকে তার জন্য রাজ্য সরকার / কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ড উপযুক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে।
- এই ব্যবস্থা চালু অথবা নতুন CRC –র সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে যাতে নির্দষ্ট ক্লাসটারের দ্বিচক্রী বা উন্নত সংকর প্রজাতির গুটি উৎপাদনে সহায়ক হবে।
- একই উদ্যোগী উপরোক্ত তিনটি ব্যবস্থা নেবেই এমন বাধ্য বাধকতা থাকবে না। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যবস্থার জন্য নির্দিষ্ঠ অনুদান রাশি বরাদ্দ করা হবে।
- দল হিসাবে কাজ করলে তিনটি ব্যবস্থায় নেওয়া যেতে পারে যাতে বেশী মাত্রায় সুযোগ দেওয়া যায়। এই ব্যবস্থাগুলি Cluster area তে দেওয়া যেতে পারে যাতে যথাযথ প্রয়োগ ও তদারকি করা যায়।
৮) কিসান নার্সারী তৈরীতে সহায়তা (Support for development of Kisan Nurseries) –
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণ –
তুঁত একটি বহুবর্ষজীবী গাছ। লাগানোর পরে এর সঠিক বৃদ্ধি এবং নিরন্তর গুণমানযুক্ত পাতা পাওয়ার জন্য প্রাথমিক অবস্থাটির পরিচর্যার প্রয়োজন। সরাসরি তুঁতকাঠি লাগিয়ে ভালোভাবে গাছ তৈরী করা সম্ভব হয় না কারণ কিছু কিছু কাঠি মরে যায়, বিশেষ করে শুকনো আবহাওয়ার সময়। চারাগাছ লাগালে ভালভাবে তুঁতবাগান তৈরী করা যায়। চারাগাছ লাগানোর অনেকগুলি উপকারিতা যেমন চারা মৃত্যুর হার তুলনায় কম, গাছ তাড়াতাড়ি বাড়ে, দুর্বল গাছ সরিয়ে ফেলা যায়, গাছের সুষম বৃদ্ধি হয়। পুরনো তুঁত বাগানে ফাঁক পূরণ ও নতুন গাছ প্রতিস্থাপনে চারাগাছের ব্যবহার করা যেতে পারে। সেইকারণে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেশীমাত্রায় চারাগাছ উৎপাদন করে চাষীদের সরবরাহ করলে এটি একটি লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে। বেশীর ভাগ চাষীরা কাঠি দিয়ে লাগানোর থেকে চারাগাছ পদ্ধতি পছন্দ করে।
বেশীমাত্রায় বাণিজ্যিক ভাবে চারাগাছ তৈরী একটি অর্থনৈতিক উদ্যোগ, দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে এই নতুন ব্যবস্থাটির প্রস্তাব করা হয়েছ। যার দ্বারা উচ্চফলনশীল তুঁত প্রজাতির বিস্তার ঘটিয়ে উৎপাদন বাড়ানো যেতে পারে। যেহেতু রাজ্যসরকার গুলির উপযুক্ত পরিকাঠামো ও লোক বল নেই চারাগছ তৈরী করার জন্য। কিন্তু এই পরিকল্পনা কালে ১ লক্ষ একর বাড়তি তুঁত বাগান করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তার জন্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিসান নার্সারী স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
একজন চাষী / উদ্যোগী বছরে এক একর জমিতে এক লক্ষ ত্রিশ হাজার উচ্চফলনশীল তুঁত চারা তৈরী করতে পারেন যা দিয়ে ২৫ একর নতুন তুঁত বাগান তৈরী করা যাবে। এককালীন সাহায্য দিয়ে এটি একটি সফল উদ্যোগে পরিণত করা যেতে পারে। কিন্তু রাজ্য রেশম দপ্তর সংশ্লিষ্ট চিহ্নিত উদ্যোগীকে তুঁত ভাল সরবরাহ ও চারা বিক্রির ব্যবস্থা করে দেবে। দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে মোট ৩.৪৫ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে ৩০০ একর কিসান নার্সারী তৈরী করা যায়। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ১.৮৪ কোটি টাকা।
কিসান নার্সারীর একক প্রতি খরচ ধরা হয়েছে ১.১৫ লাখ টাকা। ৩০০ একর কিসান নার্সারীর তৈরী চারা থেকে একর প্রতি ৫০০০ হিসাবে ৭৫০০ একর নতুন তুঁত বাগান তৈরী তৈরী করা যেতে পারে। রাজ্যগুলি অন্যন্য সংস্থার থেকে অর্থসাহায্য নিয়ে এই মডেল অনুকরণ করতে পারে।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ –
- যদিও সারা বছরই তুঁত চারা তৈরী করা যায় কিন্তু ফেব্রুয়ারী থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে কাঠি বসালে ভালো হয়। যাতে আগামী জুন – আগষ্ট মাসের মধ্যে লাগানোর জন্য চারাগাছ তৈরী হয়ে যাবে।
- মাটিতে সরাসরি লাগিয়ে বা পলিথিনব্যাগে (২৩-২৫ সেমিঃ উঁচু ও ১০-১৫ সেমি ব্যাস) চারা তৈরী করা যায়। পলিথিনের ব্যাগগুলির পাশে এবং নীচে ছিদ্র থাকা দরকার। পলিব্যাগে তৈরী কাজ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহণ করা সহজ হয়।
- নার্সারীর জমি সমতল ও খানিকটা উঁচু করা দরকার যাতে বৃষ্টির বাড়তি জল বেডে না দাঁড়ায়। যে সমস্ত জমিতে জল দাঁড়ানোর প্রবণতা আছে সেগুলি বাদ দেওয়া উচিত।
- নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত তুঁত প্রজাতি চারা তৈরীর জন্য ব্যবহার করা উচিত। CSB/DOS অনুমোদিত তুঁত প্রজাতির কাঠি সরবরাহের ব্যবস্থা করবে।
- কিসান নার্সারী তৈরীর জন্য অনুদান নার্সারীর জমির পরিমাণের আনুপাতিক হারে দেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ১০ একরের জন্য অনুদান দেওয়া যেতে পারে।
- যদিও কিসান নার্সারীর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত করা আছে তবুও রাজ্য সরকার উদ্যোগীদের ক্ষমতা অনুযায়ী বেশী জমিতে সম্প্রসারণ করতে পারে।
- রাজ্য রেশম দপ্তর এবং অন্যান্য সংস্থা চাষীদের কিসান নার্সারী তৈরীতে সহায়তা করতে পারে।
৯) একাদশ এবং দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে লাগানো তুঁত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ (Maintenance cost for mulberry plantation raised during XI and XII Plan):
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণী –
সফল পলু পালনের জন্য তুঁত বাগানের সঠিক সংরক্ষণ জরুরী। তুঁত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে, বছরে ১ বার গোড়ায় ছাঁটাই, নিড়ানো, জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, সেচ ইত্যাদি। উত্তর পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য পাহাড়ী অঞ্চলে রেশম চাষীরা দুর্বল শ্রেণীভুক্ত সেই কারণে তারা সময়মত তুঁত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে না বিভিন্ন কারণে। ঊৎপাদন কমে যাওয়ার এটি একটি প্রধান কারণ। যদি এই সমস্ত রেশম চাষীদের তুঁত বাগান রক্ষণাবেক্ষণের সহায়তা দেওয়া হয় তাহলে দ্বিচক্রী ও অন্যান্য উন্নত সংকর প্রজাতির গুটির ফলন বাড়বে।
দশম এবং একাদশ পরিকল্পনাকালে CDP অধীনে উত্তর পূর্বাঞ্চলে ২২২৫০০ একর তুঁত বাগান লাগানো হয়েছিল। এই বাগনগুলির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে এই অভিনব ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে যেমন গাছের সংখ্যা ঠিক রাখা যাবে তেমনি উৎপাদনশীলতাও বাড়ানো যাবে। তাই আপাততঃ ৫০০০ একরে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করা হবে যার জন্য ২.২৫ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ১.৭৯ কোটি টাকা। এই ব্যবস্থা উত্তর পূর্ব রাজ্য এবং অন্যান্য পাহাড়ী অঞ্চলে সীমিত থাকবে। এর জন্য ইউনিট প্রতি খরচ ধরা হয়েছে প্রতি একরে ৪৫০০ টাকা।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ –
- সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি আগের পরিকল্পনাকালে লাগানো তুঁত বাগানগুলি চিহ্নিত করবেন যারা দ্বিচক্রী ও উন্নত সংকর প্রজাতির পলুর চাষ করেন।
- তুঁত বাগানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি যেমন বছরে ১ বার গোড়া ছাঁটাই, আগাছা পরিষ্কার করা উত্যাদি মেনে চলার পূর্ব শর্ত হিসাবে চিহ্নিত করতে হবে।
- উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য উত্তর পূর্ব অঞ্চলে ও অন্যান্য পাহাড়ী এলাকায় এই সহায়তা দেওয়া হবে।
- কেবলমাত্র বেঁচে থাকা গাছের জন্য এই সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে তবে একর প্রতি কমপক্ষে ২৫০০ গাছ থাকতে হবে।
- বড় গাছের ক্ষেত্রে গাছ প্রতি ১১০ টাকা হিসাবে সহায়তা দেওয়া হবে তবে কমপক্ষে বাগানে ১০০ গাছ থাকা দরকার।
১০) ভার্মিকম্পোস্ট ছাউনি তৈরীর জন্য সহায়তা (Support for construction of Vermi-compost sheds): –
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণী –
কেঁচো সার তৈরী একটি পরিবেশ সহায়ক পদ্ধতি। এর দ্বারা বর্জ্য পদার্থকে পুনঃ ব্যবহারযোগ্য করে মাটির উর্বরতা শক্তি বাড়ানো যায়। ইদানীং রেশমচাষীরা সঠিক মাত্রায় জৈব সার প্রয়োগ করতে পারছেন না। কেঁচো সার পদ্ধতির দ্বারা বর্জ্য জৈব পদার্থকে উন্নত মানের জৈব সারে পরিণত করা যায়। এর প্রয়োগে মূল্যবান সারের খরচ কমানো যায় মাটিতে জলধারণের ক্ষমতা বাড়ানো যায়, অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব কমানো যায়, গাছের রোগ পোকার আক্রমণ কমানো যায়, পাতার ফলন বাড়ে ও সেচের পরিমাণ কমে।
বিগত দশম পরিকল্পনাকালে ইউনিট প্রতি ১৪০০০ টাকা হিসাবে অনুমোদন করা হয়েছিল। কিন্তু একাদশ পরিকল্পনাকালে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগের পরিকল্পনাকালে এটি যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল এবং রাজ্যগুলি এটি আবার নিয়ে আসার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করছে। সেই কারণে দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে এটি আবার প্রস্তাব করা হয়েছে যার খরচ ইউনিট প্রতি ২০০০০ টাকা রাখা হয়েছে। ৩৩৫০ টি ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা আছে যার জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছে ৬.৭০ কোটি টাকা। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদান ৩.৬৪ কোটি। একটি ভার্মিকম্পোস্ট ছাউনি করতে, খরচের মধ্যে ধরা আছে ৪টি ট্যাঙ্ক, খড়ের ছাউনি ও ৭ কেজি কেঁচোর দাম। ১ মেট্রিক টন কেঁচো সার বিক্রির দাম ২৫০০ – ৩৫০০ টাকা।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ –
১১) উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে তুঁত বাগনে বেড়া দেওয়ার জন্য সহায়তা (Assistance towards fencing of mulberry gardens in NE states):
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণী –
তুঁত বাগানে বেড়া দেওয়া উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলির বহুদিনের চাহিদা, যেহেতু গবাদি পশুরা তুঁত পাতা খেয়ে নষ্ট করে দেয়। তুঁত বাগানগুলি বাসগৃহ থেকে বহু দূরে হওয়ার জন্য চাষীর পক্ষে সেগুলি সঠিকভাবে দেখাশোনা করা সম্ভব হয় না। যদি কম খরচে তুঁত বাগানে বেড়া দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে তুঁত পাতার সঙ্গে সঙ্গে গুটির ফলনও বেড়ে যাবে। পূর্ব পরিকল্পনার সময় লাগানো পুরনো গাছগুলির সঙ্গে সঙ্গে আরও ৫০০০ একর তুঁত বাগানে বেড়া দেওয়ার প্রস্তাব দ্বাদশ পরিকল্পনায় গৃহীত হয়ছে। প্রকল্পটির জন্য মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫ কোটি টাকা যার মধ্যে কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ডের অংশ ৪ কোটি টাকা। এই প্রস্তাবটি কেবলমাত্র উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যসমূহ –
- চাষীরা ঝোপ জাতীয় গাছ বা বাঁশের বেড়া দিতে পারে।
- তুঁত বাগান রক্ষা করার জন্য উত্তরপূর্ব ভারতের সেই সমস্ত চাষীদের অনুদান দেওয়া যাবে যারা দ্বিচক্রী বা উন্নত সংকর প্রজাতির সংকর প্রজাতির পলু পালন করবে।
- সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে এই মর্মে একটি সংশাপত্র দিতে হবে যে তিনি অন্য কোনো দপ্তর থেকে এই ব্যাপারে কোনো সহায়তা নেননি।
১২। কীটপালন ঘরের সম্প্রসারণ ও চন্দ্রকী রাখার হল তৈরীতে সহায়তা ( উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলি ও পাহাড়ী অঞ্চলের জন্য ) (12. Assistance towards expansion of Rearing Houses for construction of Mounting Halls in NE & Hilly States) –
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণ –
গুটি উৎপাদনে সাফল্যের জন্য গুটি তৈরীর সময় বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গুটি তৈরীর জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ও যত্ন না নিলে ত্রুটি যুক্ত গুটি তৈরী হয় এতে কাটাই ঠিক ঠাক হয় না। যদিও পলুপালন ঠিকঠাক হয় কিন্তু দেখা গেছে গুটি তৈরীর সময় ৫-৮% গুটি নষ্ট হয় ঠিকমতো চন্দ্রকীতে না রাখার কারণে।
সেইজন্য উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গুটি তৈরীর জন্য আচ্ছাদন বা হল তৈরী করলে সুবিধা হয়। যেহেতু উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলিতে সাধারণতঃ পলুপালনের জায়গা বসতবাড়ী থেকে দূরে হয় সেইজন্য সেখানে গুটি তৈরীর জায়গার অভাব দেখা যায়। উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির রেশম দপ্তরের অনুরোধে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দশম ও একাদশ পরিকল্পনাকালে নির্মিত ঘরগুলির সম্প্রসারণ ও গুটি তৈরীর হল করার জন্য প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
দশম ও একাদশ পরিকল্পনাকালে প্রায় ১৫ হাজার কীটপালন ঘর তৈরীতে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে প্রস্তাব করা হয়েছে যে প্রায় ৫০০০ গুটি তৈরীর হল ও কীটপালন ঘর তৈরী করা হবে। একক প্রতি খরচ ধরা হয়েছে ৩০,০০০ টাকা। মোট লগ্নির পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা তার মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান ১২.০ কোটি টাকা।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট
- গুটি তৈরীর জন্য আলাদা হল, যাতে হাওয়া চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা আছে এমন জায়গা উপযুক্ত।
- রাজ্য রেশম দপ্তর এমন রেশম চাষী নির্বাচন করবেন যাঁরা নিয়মিত রূপে পলুপালন করে আসছেন, ভালো তুঁত জমি আছে। তাঁরা গুটি তৈরীর জন্য জায়গা নির্মানে ৩০,০০০ টাকা সহায়তা পাবেন।
- যে সমস্ত রেশমচাষী, প্রয়োজনীয় তুঁত বাগানের ভিত্তিতে একাধিক কীটপালন ঘর পেয়েছেন, তাঁরাও অনুপাতিক ভিত্তিতে এই সহায়তা পেতে পারেন।
- পাহাড়ী এলাকার সে সমস্ত চাষীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যাঁদের কীটপালন ঘর বসত ঘর থেকে দূরে ও দ্বিচক্রী বা উন্মত সংকর জাতের পলু পোষেন।
- রাজ্য রেশম দপ্তর গুটি তৈরী জায়গার জন্য মাপ, ধরণ, মেঝে দেওয়াল ও ছাউনির জন্য নকসা ও বিবরণ তৈরী করে দেবেন, অবশ্যই স্থানীয় চাহিদা অনুসারে।
এই প্রঙ্গে বিস্তারিত তথ্য খরচ ইউনিট প্রতি ইত্যাদি নীচে দেওয়া হল।
১৩) বৃষ্টি নির্ভর তুঁত বাগানে উৎপাদন বাড়াতে জল সংরক্ষণের জন্য সহায়তা (13. Support for increasing the yield of existing rainfed mulberry garden through water conservation techniques) –
ক) সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ –
ভরতবর্ষের প্রায় ৪৫% তুঁত বাগান বৃষ্টিনির্ভর। যে সমস্ত এলাকাতে বৃষ্টিযুক্ত দিনের সংখ্যা সীমিত ও বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ১০০০ মিমি থেকে কম সেইসব এলাকাতে মাটিতে রসের পরিমান কমে যায় ও পাতার উৎপাদন ও গুনমান কমে যায়। দক্ষিন ও মধ্য ভারতে প্রায় এক তৃতীয়াংশ জমি এই ধরণের। এই সব অঞ্চলের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য উপযুক্ত জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরী। ঐসব এলাকার জন্য উপযুক্ত তুঁত প্রজাতি অনুমোদিত হয়েছে যে গুলি মাটিতে কম জল থাকা স্বত্বেও উপযুক্ত ফলন দিতে পারে, কিন্তু লাগানোর পর পরই ঠিকমতো জল সংরক্ষণের ব্যবস্থা সহ উপযুক্ত আনুষঙ্গিক পরিচর্ষা করা প্রয়োজন।
সেইজন্য বৃষ্টি নির্ভর অঞ্চলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের জন্য মাটিতে জল সংরক্ষণের জন্য কিছু নতুন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যেহেতু তুঁত একটি বহুবর্ষজীবি গাছ সেইজন্য এসব ব্যবস্থা মিলে পাতার উৎপাদন বাড়বে। কৃষি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় ব্যঙ্গালোর ও কেন্দ্রীয় রেশম বোর্ডের যৌথ পরীক্ষায় দেখা গেছে যে বৃষ্টি নির্ভর অঞ্চলে জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োগ করে রেশমচাষ লাভবান হতে পারে। বৃষ্টিনির্ভর এলাকার উৎপাদন বাড়াতে অঞ্চলভিত্তিক অনুমোদিত জল সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্য সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এ ব্যবস্থার মধ্যে আছে দু সারির মধ্যে প্রচুর পরিমানে পাতাযুক্ত চাষ করে তা সারির নালার মধ্যে মাটি চাপা দিতে হবে, যা বর্জ্য জৈব পদার্থ হিসাবে কাজ করবে। এই পদ্ধতি গাছের জৈব সার সরবরাহ করবে ও জল ধারণের ক্ষমতা বাড়বে। এই নালাগুলি ছোট ছোট জলাধারের কাজ করবে। এছাড়া ছোট ছোট বৃষ্টি নির্ভর জলাধারও তৈরী করা যাবে। এই ব্যবহারের জন্য দ্বাদশ পরিকল্পনাকালে ৪০০০ একর নির্দিষ্ট করা হয়েছে, প্রতি একরে সহায়তার পরিমাণ ১০,০০০ টাকা। এর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪.০ কোটি টাকা, যার মধ্যে কেন্দ্রের অনুদান ২.১২ কোটি টাকা।
খ) প্রযুক্তিগত বৈশিষ্টসমূহ –
- এই সহায়তা কেবল মাত্র বৃষ্টিনর্ভর / খরা এলাকার জন্য সীমাবদ্ধ এবং সেই সব চাষীর জন্য যাঁরা দ্বিচক্রী ও উন্নত সংকর জাতের কীটপালন করেন।
- এলাকা চিহ্নিত করে বাঁধ তৈরী, ও ছোট ছোট প্লটে ভাগ করতে হবে।
- দুই সারির মধ্যে নালার ৩/৪ অংশ সবুজ গাছ ও জৈব সারের চাপান দিয়ে ভর্ত্তি করতে হবে। অবশিষ্ট অংশ মাটি দিয়ে ঢাকতে হবে।
- শিম্ব গোত্রীয় ফসল লাগাতে হবে, যা পরে লাঙল দিয়ে মাটিতে মেশাতে হবে।
- উপযুক্ত জায়গাতে একটি ১০০০ ঘনফুট আয়তনের জলাধার বাসাতে হবে।
- যে সমস্ত চাষীদের ১ হেক্টর পর্য্যন্ত তুঁত জমি বর্তমান ও যার বয়স কমপক্ষে দুবছর, তাঁরা এই সহায়তা পাবার যোগ্য।
- সংশিষ্ট রাজ্য রেশম দপ্তর রেশম চাষী নির্বাচন করবেন, যারা নিয়মিত রূপে কীটপালক হিসাবে চিহ্নিত ও বৈধ পাশ বুক আছে। এ ব্যাপারে এলাকার সমগ্র সম্প্রসারণ কর্ম্মীর সহায়তা নেবার প্রয়োজন আছে।
- সম্প্রসারণ কর্ম্মী এই ব্যবস্থা লাগানোর আগে ও পরে শংসা পত্র দেবেন, নির্ধারিত মর্মে। এও ঘোষনা করতে হবে যে তিনি এই সুবিধা আগে পাননি ও আগামী তিন বছর রেশম চাষ করবেন।
- বৃষ্টি নির্ভর অঞ্চলের জন্য অনুমোদিত তুঁত প্রজাতি লাগানো সুনিশ্চত করতে হবে নতুন বাগানের ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব তা সুনিশ্চত করতে হবে। এই সহায়তা তুঁত বাগান তৈরী ও রক্ষনাবেক্ষনের খরচের অতিরিক্ত হিসাবে দেওয়া হবে।
- সাহয়তা প্রাপ্ত রেশম চাষীর পাতার উৎপাদন কমপক্ষে তিন বছর লিপিবদ্ধ করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য সমূহ নীচে দেওয়া হল।
প্রত্যাশিত পরিমানঃ –
এই প্রকল্পটি রাজ্য সরকারের 23,000 MT কাঁচা তুঁত রেশম উৎপাদনের প্রচেষ্টাকে সহায়তা প্রদান করবে। 23,000 MT এর মধ্যে 5000 MT of 3A মানের Bivoltine রেশম, 6,060 MT of 2A/3A মানের সংকর জাতের রেশম উৎপাদন করতে হবে দ্বাদশ যোজনার শেষে, অর্থাৎ 2016-17 সালে। গুটির ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী করার উদ্দেশ্য হল গুনগত মান এবং উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে।
এছাড়া এটি ভালো গুনগতমান সম্পন্ন Bivoltine রেশম তৈরী করবে যা কিনা বর্তমান 1685 MT থেকে দ্বাদশ যোজনার শেষে 5000 MT দাড়াবে। দ্বাদশ যোজনার পরিকল্পনা অনুযায়ী সংকর জাতের রেশমের উৎপাদনও বাড়াতে হবে আগের যোজনা অপেক্ষা। তাহলে চাহিদা ও যোগানের ফাঁকটি পুরণ করা যাবে।
CDP-র রূপায়নের ফলে এবং রেশমচাষের ক্ষেত্রে লাভ হওয়ার ফলে কাঁচা রেশমের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন 4,728 MT গিয়ে দাঁড়াবে দ্বাদশ যোজনার শেষে এবং সহায়তা প্রদানের ফলে 16.80 লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে। কৃষকদের আয় বাড়ার ফলে তাদের আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
বরাদ্দ ঘাটতি হলে বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে। যদিও তুঁতরেশম উপাদনের দ্বাদশ যোজনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা 23,000 MT তবুও সহায়তা এই কারণে দেওয়া হচ্ছে যে Bivoltine রেশমের ক্ষেত্রে 5000 MT এবং 6,060 MT উন্নতমানের সংকর জাতের রেশম উৎপাদনের জন্য দেওয়া হচ্ছে (2A/ 3A মানের ) যা কিনা যন্ত্রচালিত তাঁতে ব্যবহার করা যাবে এবং উন্নতমানের আমদানিকৃত রেশমের নির্ভরতা কমবে। বাকি 12000 MT সংকর জাতের অথবা Bivoltine রেশম পাওয়া যাবে যে সহায়তা CDP একাদশ যোজনায় দেওয়া হয়েছে তার ব্যবহার এবং উন্নতি সাধন করে।
তুঁতরেশমের সব প্রজাতির বীজের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে কারণ সমগ্র উৎপাদনের উন্নতি সাধন করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। Bivoltine পুরুষ মথ সংকর জাতের ডিম তৈরী করতে লাগে।
দ্বাদশযোজনার কোষাত্তর (Post-cocoon) প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণ (BRIEF WRITE UP ON POST COCOON SCHEMES OF XII PLAN CDP) :
১। সূতা কাটাইয়ের চালা তৈরীর জন্য সহায়তা প্রদান –
সূতাকাটাই কেন্দ্রের চালা তৈরীর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এই যে, চালাটি Reeling Park এর জন্য নির্দ্দষ্ট গৃহে অথবা কারিগরী ক্ষেত্রে অবস্থিত হতে হবে যা কিনা বসবাসগৃহ থেকে দুরে থাকবে। এই পৃথক রিলিং চালা তৈরীর উদ্দেশ্য এখানে কটেজ বেসিন/ অথবা বহুমুখী (Multiend) রিলিং যন্ত্র স্থাপন করা। বন্য (Vanya) reeling এর ক্ষেত্রেও এ প্রস্তাব করা যেতো যদি বসবাসের গৃহ থেকে দুরে অবস্থিত হয়। 275 টি রিলিং চালা তৈরীর জন্য 6.34 কোটি কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
২। শিশুশ্রম নিবারণের জন্য মোটর চালিত চরকা স্থাপনের সহায়তা-
প্রদানঃ চরকা ঘোরানোর একটি কায়িকশ্রম এবং এতে শিশু শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকে। শিশুশ্রম নিবারণের জন্য এবং নিরুৎসাহ করার জন্য এবং কাজের মান উন্নত করার জন্য মোটর চালিত চরকা বসানোর জন্য সহায়তা প্রদানের কথা ভাবা হয়েছে যার সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও চালু থাকবে। 1000 টি চরকা বসানোর জন্য 0.73 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
৩। কটেজ বেসিন (সূতাকাটাই) কেন্দ্রের জন্য সহায়তা প্রদান –
কটেজ বেসিন দ্বারা রিলিং (সূতাকাটাই) চরকা দ্বারা কাটাইয়ের থেকে উন্নততর প্রযুক্তি। এর দ্বারা সূতা কাটালে চরকা অপেক্ষা উন্নতমানের সূতা পাওয়া যায়। অপরম্পারাগত (Non traditional) এবং পরম্পরাগত রাজ্যগুলির অপ্রচলিত ক্ষেত্রগুলিতে কটেজ বেসিন স্থাপনের উদ্দেশ্যে সহয়তা প্রদান করা হচ্ছে। 50টি কটেজ বেসিন বসানোর উদ্দেশ্যে 1.13 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
৪। বহুমখী সূতাকাটাই যন্ত্র স্থাপনের উদ্দেশ্যে সহায়তা –
বহুচক্রী x দ্বিচক্রী (Multix x Bi) এবং দ্বিচক্রী (Bivoltine) গুটির ব্যবহার করে আর্ন্তজাতিক মানের রেশম তৈরী করার জন্য কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদ একটি বহুমুখী কাটাই মেশিনের প্রযুক্ত তৈরী করেছে। এতে 6 বেসিন এবং 10 বেসিন মেশিনের জন্য সহায়তা প্রদান করা হবে। এই একক গুলি একক উদ্দ্যেক্তা দ্বারা অথবা গোষ্ঠীগত ভাবে SPV দ্বারাও করা যায়। আরও একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে গত যোজনায় যে বহুমুখী কাটাই মেশিন দেওয়া হয়েছে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য। 225 টি বহুমুখী কাটাই মেশিন স্থাপনের জন্য 16.79 কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। আগের যোজনায় এটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল, সেইজন্য দ্বাদশ যোজনায় এটিকে রাখা হয়েছে। 4500 টি মেশিনের জন্য 2.13 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
৫) স্বয়ংক্রিয় কাটাই কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদান-
দেশীয় দ্বিচক্রী (Bioltine) গুটি থেকে আন্তজতিক মানের কাঁচা রেশম তৈরীর উদ্দেশ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় (automatic) রিলিং কেন্দ্রর জন্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এটি 400 / 200 প্রান্তযুক্ত ক্ষমতা সম্পন্ন কাটাই ইউনিট স্থাপনের উদ্দেশ্যে দেওয়া হচ্ছে যেগুলিতে উন্নতপ্রযুক্তির সাহায্যে গুটি শুকানো, সিদ্ধ করা, কাটাই এবং পুনকাটাই ইত্যাদি করা যাবে। এগুলি একক উদ্যোগী দ্বারা অথবা দলগত ভাবে (SPV mode) এ করা যাবে। 20 টি স্বয়ংক্রিয় কাটাই কেন্দ্র স্থাপনের জন্য 12.39 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
৬) স্বয়ংক্রিয় Dupion কাটাই কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদান –
ডবলগুটি এবং নিকৃষ্ট মানের গুটিগুলি থেকে Dupion রেশমে তৈরী করা হয়। নিকৃষ্ট মানের কোকুনের থেকে উৎপন্ন রেশমের মানবৃদ্ধি করা এবং আর্ন্তজাতিক মানের Dupion সূতা তৈরী করার জন্য আমদানি করা মেশিনের সাহায্যে, স্বয়ংক্রিয় Dupion রেশম কাটাই কেন্দ্র তৈরীর জন্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। গুটি কেন্দ্র স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ 1.28 কোটি টাকা।
৭। সূতাপাকানো কেন্দ্রের জন্য সহায়তাঃ –
বহুমুখী কাটাই মেশিনগুলির লাভের মাত্রা বাড়ানোর জন্য এই গুলির সাথে সূতাপাকানোর এককগুলির যোগ সাধন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে তারা উৎপন্ন সূতাগুলিকে পাকানো সূতা হিসাবে বিক্রি করতে পারেন। 480 টি মাকুর ইউনিট স্থাপনের উদ্দেশ্যে সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। 125 টি সূতা পাকানো কেন্দ্রের জন্য 7.45 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে।
৮) Bank দ্বারা মূল পুঁজির উপর সুদ ভর্তুকি সর্তে সহায়তা প্রদান –
রেশম উৎপন্নের সমস্ত পদ্ধতির মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুর্বলতম যোগসূত্র হচ্ছে সূতা কাটাই দামের 80-90% যা থেকে মুল পুঁজির প্রয়োজন মেটে। এছাড়া ব্যাঙ্ক অথবা অন্যান্য আর্থিক সংস্থাগুলি থেকে কাটাই কেন্দ্রগুলি খুব অল্প পরিমান ধার দেওয়া হয়। মুল পুঁজির চাহিদা মেটানোর জন্য বানিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে 5% সুদে কাটাই কেন্দ্রগুলিকে মুলপুঁজি ধার দেওয়ার প্রস্তাব মঞ্জুর করা হচ্ছে যা রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা সমভাবে মেটানো হবে। কেন্দ্রীয় অংশ 1.84 কোটি টাকা।
৯) Bivoltine silk এর জন্য উৎসাহ যোজনা –
এটি বহুমুখী এবং স্বয়ংক্রিয় কাটাই মেশিনের ব্যবহারের দ্বারা উন্নতমানের Bivoltine রেশম উৎপাদনের জন্য উৎসাহ দেয়। এটি চাষীদের ভালো Bivoltine গুটি তৈরী করে ভালো দাম পাওয়ার চেষ্টাকে উৎসাহিত করে। যোগ্য উৎসাহ রাজ্য এবং কেন্দ্রের মধ্যে সমভাবে ভাগ হবে। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ 7.80 কোটি টাকা রাখা হয়েছে প্রয়োজন অনুসারে।
১০) Vanya সূতাকাটাই (Reeling) এবং পাকানোর (Spinning) জন্য সহায়তা –
a) কেন্দ্রীয় রেশম পর্ষদ তসর এবং মুগা দুই ধরণের সূতা কাটাই এর জন্য একটি মেশিন প্রস্তুত করেছে যাতে সূতা কাটাই এবং পাক দেওয়া একসাথে করা যায়। একই মেশিনে দুই কাজ করলে কিছু কিছু সুবিধা যথাঃ বেশি উৎপাদন, কম পরিশ্রম ও উন্নতমানের সূতা ইত্যাদি পাওয়া যায়। 3000 কাটাই এবং সূতা পাকনোর মেশিনের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অংশ 9.71 কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
b) সিক্ত (ভেজা) কাটাই মেশিনঃ তসর সূতা কাটাই সাধারণতঃ একটি শুষ্ক কাটাই পদ্ধতি। CSB উন্নতমানের তসর সূতা প্রস্তুতের জন্য একটি উন্নত প্রযুক্তির সিক্ত কাটাই মেশিন আবিষ্কার করেছে। 100 টি মেশিনের জন্য কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ 0.36 কোটি টাকা করা হয়েছে।
c) একের মধ্যে দুই (কাটাই এবং পাক দেওয়া মেশিন): এটি এমন একটি মেশিনের জন্য সহায়তা প্রদান করে, যেখানে একই মেশিনের মধ্যে সিক্ত (ভেজা) কাটাই এবং পাক দেওয়া যাবে। দ্বাদশ যোজনায় এটি একটি নতুন সংযোজন। 100টি মেশিন স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দ 0.50 কোটি টাকা।
d) তসরগুটি বাছাই মেসিনঃ হাত দিয়ে তসর গুটি বাছাই করার কাজ যা এখনও অবধি চলে আসছে সেটি একটি কষ্টকর পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়াটিকে বাতিল করার জন্য CSB গুটির সাইজ অনুযায়ী বাছাই করার একটি মেশিন আবিষ্কার করেছে। যেহেতু এর মূল্য বেশী তাই তসরগুটি প্রস্তুতকারক রাজ্য গুলিকে এটি পরীক্ষামূলক ভাবে দেওয়া হবে। 10 টি মেশিনের জন্য 0.03 কোটি (৩ লক্ষ) টাকা কেন্দ্রীয় বরাদ্দ করা হয়েছে।
e) মোটর চালিত / প্যাডেল চালিত মেশিনঃ হস্তচালিত মেশিনে silk সূতার উৎপাদন এবং তার গুনগত মান বাড়ানোর জন্য মোটর চালিত/ প্যাডেল চালিত কাটাই মেশিন উদ্ভাবন করেছে । আগের যোজনায় এটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল। সেইজন্য দ্বাদশ যোজনায় এটিকে রাখা হয়েছে। 4500 টি মেশিনের জন্য 2.13 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ হয়েছে।
f) সৌরশক্তি চালিত সূতাপাকানোর মেশিনঃ- প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে বিদ্যুতের ব্যবহার নেই সেই সব এলাকার কারিগরদের কথা ভেবে সৌরশক্তি চালিত বুনন মেশিনের উদ্ভাবন হয়েছে CSB দ্বারা। 100 টি সৌরচালিত মেশিনের জন্য কেন্দ্রীয় রবাদ্দ 0.14 কোটি টাকা।
১১। শিক্ষক রিলার এবং কারিগরদের সহায়তা প্রদান (Providing services of Master Reelers & Technicians) :
অপ্রথাগত রাজ্যগুলিতে এবং প্রথাগত রাজ্যগুলির অপ্রথাগত জায়গাগুলিতে দক্ষ করিগরের অভাব রিলিং শিল্পের একটি প্রধান অসুবিধা। এই সমস্যাগুলিকে অতিক্রম করার জন্য দক্ষ কাটাই শিল্পীকে নিযুক্ত করে কাটাই কর্মীদের প্রশিক্ষন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্বাদশ পরিকল্পনায় একটু রদবদল সহ রিলিং কেন্দ্রগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও, দক্ষ করিগরদের পরিষেবা নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। 50 জন দক্ষ কাটাই কারিগর এবং 10 জন দক্ষ কারিগরদের জন্য 0.86 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ হয়েছে।
১২। হস্তচালিত তাঁতের উন্নতিসাধন (Support for Handloom Sector) :
a) CSTRI দ্বারা উদ্ভাবিত Jacquard ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তাঁতকে সমৃদ্ধ করা –
বর্তমান রেশম তাঁতগুলির আর্থিক সামর্থ্য ততটা নেই যার দ্বারা বয়নকারীরা এগুলির উন্নতি সাধন করে বৈচিত্রপূর্ণ জিনিস তৈরী করতে পারেন। এইজন্য বর্তমানে Pit অথবা Frame অথবা উন্নত তাঁতগুলি যেগুলি silk তৈরীর সাথে যুক্ত সেগুলিতে কিছু কিছু উন্নত জিনিষ যেমন – Jacquard, dobby, Prin winding machine, Asu machine, winding machine ইত্যাদি যুক্ত করে উন্নতি সাধন করার কথা ভাবা হয়েছে। 5000 রেশম বয়নকারী তাঁতের উন্নতির জন্য 3.86 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
b) সিল্ক তাঁতের জন্য CSTRI দ্বারা উদ্ভাবিত হাইড্রোলিক যন্ত্রের ব্যবহার।
নকশা বুননের জন্য 3 থেকে 4 টি Jacquard এর ব্যবহার একটি সাধারণ প্রথা। এই জাকার্ড গুলি তুলতে বয়নকারীর প্রচুর পরিশ্রম হয়। যার ফলে হাড়ের প্রচণ্ড ব্যাথার সঙ্গে বাতের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তরুন প্রজন্মকে হস্তচালিত তাঁত ব্যবহার থেকে দূরে থাকার এটি একটি প্রধান কারণ। তাঁতের জন্য বায়ুচালিত উত্তোলন (হাইড্রোলিক) প্রক্রিয়া ব্যবহার করলে বয়নকারীর শক্তিক্ষয় অনেক কম হবে। তাই এই ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদানের কথা ভাবা হচ্ছে। 2000 রেশন তাঁতের জন্য 4.53 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
১৩। সূতা রঙ করা এবং বস্ত্র প্রক্রিয়া করণের জন্য একত্র সুবিধা (Support for setting up of Common Facility Centre (CFC) for Yarn Dying & Fabric processing) (কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদান (CSTRI দ্বারা উদ্ভাবিত বিশেষ শিল্প প্রযুক্তি)
i) Computer দ্বারা বস্ত্রের নকশা তৈরীঃ – নকশা, বস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা পন্যকে বাজারজাত করতে বড় ভূমিকা নেয়। নকশা প্রস্তুতি করার জন্য পরিশ্রম অনেকাংশে কমানো যায় Computer এর সাহায্যে নকশা করণে। Computer বস্ত্র নকশাকারক কে তার সৃজনশীলতা এবং নমনীয়তা দেখানোর স্বাধীনতা দেয়। বাজারের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াও Computer এর মাধ্যমে অনেক দ্রুত জানা যায়। Computer দ্বারা card punching করলে হস্তচালিত শক্তির সাশ্রয় হয়। 50টি computer দ্বারা নকশা করার কেন্দ্র প্রতিস্থাপনের জন্য 1.23 কোটি কেন্দ্রীয় অংশ রবাদ্দ হয়েছে।
ii) রেশম সূতা রঙ করা (Tub এবং Arm) – রেশম সূতা রঞ্জনের কর্মকুশলতা কারিগরী বহুপ্রাচীন। পরিবেশের কথা খেয়াল না রেখেই রঙ নির্বাচন ও বর্জ্য পদার্থ পরিশ্রুত না করেই ফেলে দেওয়া হচ্ছে। রঙ করা কেন্দ্রগুলির প্রয়োজনীয়তা এবং সমস্যার উপর CSB একটি সমীক্ষা করেছে এবং সূতা রঞ্জক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সহায়তা প্রদান করার কথা ভেবেছে। 30টি Tub রঞ্জক এবং 10টি Arm রঞ্জক একক বসানোর জন্য 2.85 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে।
iii) বস্ত্র প্রক্রিয়াকরণঃ – যন্ত্রচালিত তাঁতে প্রস্তুত অধিকাংশ রেশম বস্ত্র যথা নরম সিল্ক, সিফন, ক্রেপ, জর্জেট ইত্যাদি টুকরা হিসাবে রঙ করা হয়। যার জন্য বস্ত্র প্রক্রিয়া করণ এবং সমপ্তিকরণের প্রয়োজন হয়। এই সুবিধা গুলি যেহেতু মূলধন নির্ভর, বস্ত্রপ্রক্রিয়াকরণ সাধারনতঃ পুরাতন পদ্ধতিতে বড় পাত্রের ভিতর করা হয় যার ফলে উৎপাদিত বস্তুর মান কমে যায়। উৎপাদিত বক্তু বাইরের সংস্থার উপর নির্ভরশীল। এই কার্যগুলির জন্য সহায়ত প্রদান করলে বস্ত্রপ্রক্রিয়াকরণে উন্নতি করা যাবে। 10 টি প্রক্রিয়াকরণ একক তৈরীর জন্য 2.10 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ বরাদ্দ হয়েছে।
iv) বর্হিগমনকারী ব্যবহারিক যন্ত্রের জন্য সহয়তা (ETP) – CDP আগের যোজনা কালে সূতা রঞ্জন এবং বস্ত্রপ্রক্রিয়াকরণ জারি করার ফলে বর্হিগমনের পূর্ব প্রক্রিয়া করা বাধ্যতা মূলক করা হয়েছে। ETP সহ সূতারঞ্জন ও বস্ত্রপ্রক্রিয়া করণের ফলে পরিবেশগত সুরাহা হয়। 2.84 কোটি কেন্দ্রীয় অংশ এই উদ্দেশ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে।
১৪। বয়ন শিক্ষক, নকশাকার, রঞ্জনকারী এবং কারিগরদের জন্য সহায়তা প্রদানঃ (Providing services of Master Weavers / Designers, Dyers & Technicians):
প্রতিটি হস্তচালিত তাঁত তার নিজস্ব জিনিসের জন্য পরিচিত কিন্তু বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নকশা পরিবর্তনের জন্য খুব অল্প চেষ্টাই করা হয়েছে। এর মূল কারণ হতে পারে দক্ষ লোকের অভাব। সমভাবে রেশম সূতা রঞ্জন ও রেশম বুননের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দক্ষ বয়ন ও দক্ষ রঞ্জন কারিগরের দ্বারা এই গুলির উন্নতি সাধন করা যায়। দক্ষ বয়ন এবং রঞ্জন শিল্পি, নকশাকার এবং কারিগরদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য 0.86 কোটি বরাদ্দ হয়েছে।
১৫। গুটি এবং কাঁচা রেশমকে বাজারজাত করা অথবা পদ্ধতির উন্নতি সাধনের জন্য রাজ্যগুলিকে সহায়তা প্রদানঃ Support to States for creating / upgrading marketing Infra-Structure for cocoon & raw silk):
গুটি এবং কাঁচা রেশমের বাজারজাত করার পদ্ধতি তৈরী করা অথবা তার উন্নতি সাধন করার জন্য রাজ্য গুলিকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে যাতে সেগুলি মান অনুযায়ী দাম পায়। এই সহায়তাটি নতুন গুটি বাজার তৈরী করতে অথবা রেশম সূতা বিনিময় কেন্দ্র করার জন্য অথবা চলতি গুটি বাজারের উন্নতি সাধনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এই সহায়তার দ্বারা Cocoon bank স্থাপন, গুদাম ঘর তৈরী, Vanya (মুগা এবং Eri) সিল্কের বিপনন কেন্দ্র গঠন, II তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করার জন্য ব্যবহার করা যাবে। এই জন্য 11.94 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অংশ রবাদ্দ করা হয়েছে।
১৬। গরম বাতাসের সাহায্যে গুটি শুকানোর জন্য সহায়তা প্রদান –
উত্তর ও উত্তর পূর্বভারতে রেশমচাষ ঋতুভিত্তিক। অনুকুল ঋতুতে যে গুটির চাষ করা হয় তা পরের ছয় মাস পরে ব্যবহারের জন্য শুষ্ক করে সংরক্ষণ করা হয়। এই সহায়তাটি অপ্রথাগত রাজ্যগুলির কৃষক এবং কাটাইকারিদের বৈদ্যুতিক গরমহওয়া দেওয়ার মেশিন অথবা বহুজ্বালানি চালিত গরমহাওয়ার মেশিন স্থাপন করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হবে। একটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে 2MT ক্ষমতাসম্পন্ন মেশিন দেওয়ার কারণ হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্বু ও কাশ্মীর ইত্যাদি রাজ্যে এই ধরণর মেশিনের চাহিদা আছে। এর জন্য 7.76 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় অনুদান বরাদ্দ হয়েছে।
১৭। Vanya রেশম বিপননের উন্নয়নঃ [Vanya Silk Marketing Promotion (VSMP) ] :
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে Vanya রেশম বেশ নাটকীয় ভাবে উন্নতি করেছে। CSB নতুনভাবে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে এবং নতুন কাটাই মেশিন, বোনাই ইত্যাদিকে জনপ্রিয় করার ফলে বাজারজাত পন্যের অনেক উন্নতি হয়েছে। এই শিল্পগুলির উন্নতি সাধন এবং রপ্তানি করার জন্য CSB উদ্যোগ নিয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় এবং Brand এর উৎসাহদান ঘরোয়া এবং বিদেশী বাজারে, পন্যের নকশায় বৈচিত্র আনা, সম্মিলিত প্রকল্পগুলির মাধ্যমে, বর্তমান উৎপাদন কারিগরির উন্নতি সাধনের মাধ্যমে, বড় বড় শহরগুলিতে প্রদশর্নীর মাধ্যমে উৎপাদনকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করা যাতে তারা জাতীয় এবং বিদেশী বাজারে পন্য বিপনন করতে পারেন এবং প্রর্দশনীতে অংশ গ্রহণ করতে পারেন যা Vanya Silk Marketing Promotion scheme-এর মাধ্যমে হয়। এই উদ্দেশ্যে 1.00 কোটি টাকা রাখা হয়েছে।
সহায়তা সেবা ক্ষেত্রঃ (SUPPORT SERVICE SECTOR): দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষন, ক্ষমতা বাড়ানো, উদ্যোগের উন্নয়ন [Skill Training & Enterprise Development Programme (STEP) ]:
রেশম শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের মানদণ্ড নির্দ্দিষ্ট করে উৎদ্যোক্তাদের উন্নয়ন করা এবং কারিগরদের আরও ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। এই সহয়তার মাধ্যমে এরা নিজেদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় করতে পরিবে এবং বিভিন্ন ধারণার পরিমার্জনা করতে পারবে।
এই ধরণের 60টি প্রশিক্ষন কর্মসূচীর জন্য 1.00 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে।
কৃষকদের ক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচীঃ [Beneficiary Empowermant Prog. (BEP)] : এই কর্মসূচীটির মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী এবং দক্ষতার অভাব মেটানোর উদ্দেশ্যে কৃষক এবং সুবিধাভোগীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় রাজ্য সরকার এবং CSB-র যৌথ উদ্যোগে। 4000 জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য 1.34 কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
সেরিকালচার সম্পত্তির কেন্দ্র স্থাপনঃ [Establishment of Sericulture Resource Centre (SRC)] : এই প্রশিক্ষণ এবং সুবিধাদান, কেন্দ্রগুলির বিস্তার, গবেষনাগার এবং সুবিধাভোগীদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করবে। এগুলি সাধারণতঃ অগ্রনী কৃষকদের দ্বারা অথবা কোনো NPO/ NGO দ্বারা অথবা রেশম সমিতি দ্বারা পরিচালিত হবে। এই জাতীয় 16 টি SRC স্থাপনের জন্য 2.27 কোটি টাকা কেন্দ্রীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
দ্বাদশ পরিকল্পনার CPP র মাধ্যমে আমদানি যোগ্য বিকল্প রেশম উৎপাদন
দ্বাদশ পরিকল্পনার কালে প্রধানত 5000 MT দ্বিচক্রী কাঁচা রেশমের একটি লক্ষ্যমাত্রা 2013-14 সালে স্থির হয়েছিল, CSB একটি পরিকল্পনা করেছিল এই লক্ষ্যমাত্রা CPP-র মাধ্যমে পুরণের জন্য যাতে 172 Bivoltine cluster –এর মাধ্যমে 1575 MT কাঁচা রেশম পাওয়া যায় এবং 905 MT অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত হয়। দক্ষতার উপর নির্ভর করে প্রতিটি রাজ্যকে কিছু কিছু Cluster বরাদ্দ করা হয়েছিল। 2013-14 সালে দক্ষিন দক্ষিন অঞ্চলে 102টি, উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে 41টি, মধ্য পশ্চিম অঞ্চলে 13 টি, পূর্ব অঞ্চলে 8টি এবং উত্তর পূর্ব অঞ্চলে 8টি সংগঠিত করা হয়েছে। এই cluster-গুলি CSB বৈজ্ঞানিকদের দ্বারা এবং রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রে কর্মচারীদের দ্বারা রক্ষণাবক্ষণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বিচক্রী সিল্ক এর উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের একত্রীকরণের মাধ্যমে রেশমের গুনগত মান বৃদ্ধি করা।
কুশলতার উপর নির্ভর করে রেশম চাষের উন্নতি সাধনের জন্য রাজ্য সরকার দ্বারা সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করার জন্য বাৎসরিক লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি সার্থকভাবে রুপায়ন করার জন্য Cluster Development facilitator এবং রাজ্য সরকার কে সমভাবে দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। ক্লাষ্টারের সুবিদাভোগীর CDP থেকে কারিগরী বিস্তার কার্যসূচীর মাধ্যমে সচেতনতা, রেশম পলুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং পন্য বাজার জাত করার জন্য সহায়তা পাবেন।
